
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
প্রদীপের রোষানলের শিকার সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা আরেকটি চাঁদাবাজির মামলায় জামিন হয়েছে আজ। ১৮ আগস্ট সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহ দীর্ঘ শুনানির পর সন্তুষ্ট সহকারে জামিন প্রদান করেন। মামলার নং ৭৯৮/১৯ টেকনাফ।
আজ ১২ টায় জামিন হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আসামীপক্ষের আইনজীবি সাইফুদ্দিন খালেদ। এর আগে জামিন হওয়া আরো ২টি মামলা নম্বর এসটি : ২৭৯/২০২০ ও জিআর-১০২৭/২০১৯ ইংরেজি।
উল্লেখ্য, ফরিদুল মোস্তফার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ৬টির মধ্যে ৩ টি মামলা হচ্ছে চাঁদাবাজির মামলা।
সূত্রে জানা গেছে, টেকনাফের বহিস্কৃত ওসি প্রদীপের রোষানলে থাকায় হোয়াইক্যং হাজী আবুল হাশেমের ছেলে মফিজ আহাম্মদ ইকবালের দায়ের করা চাঁদাবাজির সাজানো মামলায় সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা বিরুদ্ধে।
গত ৩১ জুলাই রাতে মেজর (অবঃ) সিনহা মোঃ রাশেদ হত্যাকান্ডের পর ফরিদুল মোস্তফাকে প্রায় একবছর আগে শারীরিকভাবে নির্যাতন ও তার বিরুদ্ধে ৬টি মামলা দিয়ে তাকে কারান্তরীণ রাখার বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে।
নির্যাতনের শিকার সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফার স্ত্রী হাসিনা আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, ২০১৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে ‘টেকনাফ থানায় টাকা না পেলে ক্রসফায়ার দিচ্ছে ওসি প্রদীপ’- শিরোনামে আমার স্বামী ফরিদুল মোস্তফার সম্পাদিত স্থানীয় দৈনিক ‘কক্সবাজার বাণী’র অনলাইন ভার্সনে এবং ‘জনতারবাণী’ শিরোনামের অনলাইন নিইজ পোর্টালে সংবাদটি প্রকাশ করা হয়।
এরপরই তিনি প্রদীপের রোষানলে পড়েন। পরে টেকনাফ থানার নিজের লোককে বাদী করে ওসি প্রদীপ কুমার দাশের পরিকল্পনা মতে আমার স্বামীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা করেন। এরপর থেকেই পুলিশি নির্যাতনের ভয়ে পরিবারের লোকজন নিয়ে পালিয়ে বেড়ান তিনি।
জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর আবেদন করলেও শেষরক্ষা হয়নি আমাদের। ঢাকা মিরপুরের একটি বাড়িতে পরিবার-পরিজন নিয়ে আত্মগোপনে ছিলাম আমরা।
তখন ওসি প্রদীপ মিরপুর থানার পুলিশকে ব্যবহার করে গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর রাতে ওই বাসা থেকে আমার স্বামীকে গ্রেফতার করে টেকনাফে নিয়ে যান।
সাংবাদিক ফরিদের স্ত্রী আরও জানান, ফরিদকে টেকনাফ নিয়ে যাওয়ার পর চলে অকথ্য নির্যাতন ও বর্বরতা। তার চোখ উপড়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়।
পরে তাকে কক্সবাজার মডেল থানার সহযোগিতায় কক্সবাজার শহরের সমিতিপাড়ায় আমাদের কুঁড়েঘরে অভিযানের নামে নাটক সাজিয়ে উদ্ধার করা হয় ইয়াবা, অস্ত্র ও বিদেশি মদের বোতল। পুলিশ বাদী হয়ে করে পৃথক তিনটি মামলা। পাঠানো হয় জেলে। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই আছেন।
পাঠকের মতামত